• বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ইরানে আমেরিকার বর্বর আগ্রাসন : সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব-পরিকল্পনা ও সর্বহারা শ্রেণির কর্তব্য

ইরানে আমেরিকার বর্বর আগ্রাসন : সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব-পরিকল্পনা ও সর্বহারা শ্রেণির কর্তব্য

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি’২৬ ভোরে ইরানের আকাশ কেঁপে ওঠে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার আঞ্চলিক পোষা কুকুর ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ইসরায়েলের বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায়। এই পৈশাচিক আগ্রাসনের প্রথম কয়েক দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩,৫০০-এর বেশি মানুষ। তেহরান, ইসফাহান ও শিরাজসহ বিভিন্ন শহরে মার্কিন ইসরায়েলি হামলার আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বেসামরিক বসতি, কলকারখানা আর হাসপাতাল। শীর্ষ নেতা আলী খামেনিসহ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের হত্যাকাণ্ড তথাকথিত আন্তর্জাতিক আইনকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আজ সাধারণ সংকটের এক চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই মরণ সংকট কাটিয়ে ওঠার শেষ চেষ্টা হিসেবেই তারা দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

কেন এই আক্রমণ

এই আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বা ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের পথে প্রধান বাধা ইরানকে চূর্ণ করা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাৎসি সুলভ প্রেসিডেন্সি এখন আর কোনো রাখঢাক না রেখে মাফিয়া কায়দায় সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের বিশাল তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার লুণ্ঠন করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের তেল বাণিজ্যের ২০% পরিচালিত হয়। মার্কিন দস্যূরা চায় এই পথ কবজা করে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন-রাশিয়া অক্ষের অর্থনৈতিক ঘাড় মটকে দিতে। এ জন্য তারা এই হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের রেজিম পরিবর্তন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সিরিয়ায় শাসক বদল এবং গাজায় ইসরায়েলের বর্বর গণহত্যা চালিয়ে তারা সে পথ পরিষ্কার করেছে। এখন ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো এই অঞ্চলে চীন-রাশিয়া ব্লকের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। ইরানের সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তাদের বাজারের নিয়ন্ত্রণ আর নতুন বণ্টনের লড়াইয়ে মেতেছে।

সাম্রাজ্যবাদের সংকট

পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা আজ এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত। মুনাফার পাহাড় গড়তে গিয়ে তারা বিশ্বজুড়ে দারিদ্র আর পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে এনেছে। তথাকথিত ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো উন্নতি আনেনি, বরং আর্থিক পুঁজির শোষণের হাতিয়ার আরো শক্তিশালী হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ যখন সাধারণ সংকটে পড়ে, তখন প্রধান সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো কাঁচামাল এবং বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বিশ্বকে নতুন করে ভাগ-বাটোয়ারার লক্ষ্যে লড়াই শুরু করে। ল্যাটিন আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ থেকে শুরু করে ইরানে হামলা, সবই এক সুতোয় গাঁথা।  

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কিছু পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তা মার্কিন একগুঁয়েমি ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে আপাতত ভেস্তে গেছে। এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আবারও যুদ্ধের হুমকি দিয়ে ইরানকে কাবু করতে চাইছে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নৌ অবরোধ দিয়ে চাপ সৃষ্টিও করেছে। যদিও ট্রাম্প এখন চাইছে তাল গাছটা তার ইরান তা মেনে যুদ্ধ বন্ধ করুক। ইরানে বর্বর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে খোদ মার্কিন জনগণ ফুঁসে উঠেছেন। উপরন্তু চটজলদি জয় এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বড়ো ধরনের আার্থিক ঝঁুকিতে পড়ে মার্কিন শাসকশ্রেণির মধ্যে গুরুতর দ্বন্দ্ব বেধে উঠেছে।

উপরন্তু এ যুদ্ধে তারা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোকে তাদের পরিকল্পনায় একতাবদ্ধ করতে শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছে। ফলে মার্কিন-ট্রাম্প তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের সহযোগিতাও তেমন পাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালি আবার সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশকে নতুন আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশ এই অবদান রাখার বিষয়ে আলোচনা করলেও তারা জানিয়ে দিয়েছে কেবল যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পরই তারা এই প্রণালি উন্মুক্ত করতে সহায়তা করবে।

যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশসমূহ, ইউরোপীয় মিত্র এবং তৃতীয় বিশ্বের বহু দেশকে সংকটে ফেলেছে। তাই, তাদের দিক থেকে যুদ্ধ বন্ধের চাপ যুদ্ধরত দুই দেশ ও মার্কিন পালিত কুকুর ইসরায়েল এড়াতে পারছে না। ক্লান্ত দুই পক্ষ আপাতভাবে যুদ্ধ বিরতিতে গিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই নিজেদেরকে বিজয়ী দেখানোর জন্য এবং যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য বিবিধ শর্ত ও চাপ দিচ্ছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রশ্ন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন– অর্থাৎ উক্ত অঞ্চলে নিজ নিজ আধিপত্য ও প্রভাব যত বেশি সম্ভব জারি রাখতে। ইরানের পেছনে রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা এক্ষেত্রে তাকে শক্তি যোগাচ্ছে। এবং পুনরায় এটা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিশ্বের নব-ভাগবাটোয়ারা এবং সম্ভাব্য বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতিতে এ জাতীয় যুদ্ধ কতটা বেশি ভূমিকা রাখছে।

ধর্মবাদীদের চরিত্র এবং যুদ্ধে তাদের সমস্যা ইরানে এই আক্রমণ শুরু হওয়ার পর আমাদের দেশের কিছু ধর্মবাদী গোষ্ঠী একে ‘ইসলামের ওপর আঘাত’ বলে চিৎকার করছে। এরা মূলত চরম সুবিধাবাদী এবং ঐতিহাসিকভাবেই এরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল। এরা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে জনগণকে বিপ্লবী পথ থেকে দূরে রাখতে চায়। এই যুদ্ধকে তারা শিয়া-সুন্নি বা সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব হিসেবে হাজির করে সঙ্গোপনে জনগণের মধ্যে বিভাজনও তৈরি করছে। তারা সমগ্র সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার উন্মোচন কখনোই করে না। কেউ কেউ তাদের মার্কিনি দালালিকে আড়াল করার জন্য ধর্মীয় হুজুগ তোলে।

ইরানের বর্তমান ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট শাসকরা গত চার দশক ধরে সেদেশের শ্রমিক-নারী-ছাত্র-জনতা, প্রগতিশীলদের ওপর নির্মম দমন-নিপীড়ন চালিয়েছে। তা তাদেরকে জনগণের অনেকাংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই জনবিচ্ছিন্নতাই আজ সাম্রাজ্যবাদী দস্যূদের জন্য পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম দিনেই খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের হত্যাকাণ্ড ইরানের শাসকশ্রেণির মার্কিনপন্থি একটি অংশের বিশ্বাসঘাতকতার ফল। এভাবে ইরানের শাসকদের মধ্যে বিভাজন ও বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে, যা কিনা মার্কিনিরা চায়। কিন্তু পৃথিবীর জাতি-জনগণের এক নম্বর শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যখন ইরানে এক অন্যায় ও বর্বর আক্রমণ করেছে তখন সেটা বরং সেই ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট শাসকদের সুবিধা ডেকে এনেছে। তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে সাময়িকভাবে হলেও মার্কিন জুজুকে দেখিয়ে সেখানকার তরুণ-নারীসহ ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের বিক্ষোভ-বিদ্রোহকে সাময়িকভাবে হলেও চাপা দেয়া।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহ

কথিত ‘মুসলিম উম্মাহ’র ঐক্য আজ এক ধাপ্পাবাজি হিসেবে প্রমাণিত। ১৯৬৭ সালের পর থেকে আরব দেশগুলোর শাসকশ্রেণি মূলত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বেতনভুক্ত ভৃত্যে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরব, জর্ডান বা মিশরের দালাল শাসকরা হয় এই হত্যাকাণ্ডে মৌনতা পালন করছে, নয়তো পর্দার আড়াল থেকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মার্কিন-ইসরায়েলকে সাহায্য করছে।

আগামীর সংকটগুলো

এই যুদ্ধ কেবল ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব হবে দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বগ্রাসী। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ আজ লক্ষ লক্ষ শরণার্থী তৈরি করছে এবং দারিদ্র ও বেকারত্বকে ভয়াবহ পর্যায়ে ঠেলে দিচ্ছে। তেল ও জ্বালানি সংকট হওয়ার ফলে পরিবহণ খরচ, সারের দাম, সেচ ব্যবস্থা সবকিছই ব্যয়বহুল হয়ে যাবার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এসব বাড়তির দিকে। যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে কৃষির ওপর। দ্রব্যমূল্য বাড়ার পরিণামে জনদুর্ভোগ আরো বাড়াবে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়ছে, যা শিল্পকারখানার উৎপাদন কমিয়ে দেবে এবং শ্রমিক ছঁাটাই অনিবার্য করে তুলবে। এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলবে। মার্কিনিরা যদি স্থল-যুদ্ধ শুরু করে (যদিও তার সম্ভাবনা এখন কম) ইরান আগামীতে সিরিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের আবর্তে পড়তে পারে। আমাদের দেশে বিএনপি সরকার বা বুর্জোয়া বিরোধীরা এই যুদ্ধের দোহাই দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার মূল কারণ, সাম্রাজ্যবাদ-নির্ভর অর্থনীতি ও রাজনীতি, তাকে আড়াল করছে, করবে এবং জনগণের উপর শোষণ-নিপীড়ন আরও তীব্র করবে। সাম্রাজ্যবাদ-নির্ভর অর্থনীতির এই সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে, আরো তুলবে যা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সাম্রাজ্যবাদ বনাম ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ: জনগণ কোন দিকে যাবেন?

একদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী-ইসরায়েলি আগ্রাসন, অন্যদিকে ইরানের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ– জনগণ কোনদিকে যাবেন? এই দুটির কোনোটিই জনগণের মিত্র নয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ হলো বিশ্বের নিপীড়িত জাতি-জনগণের এক নম্বর শত্রু। অন্যদিকে, ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ হলো জনগণের অভ্যন্তরীণ হিংস্র শত্রু। তাই, সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ দুটোকেই বিরোধিতা করতে হবে।

কমরেড মাওয়ের শিক্ষা অনুযায়ী, জনগণকে অন্যায় যুদ্ধের বিরোধিতা করতে হবে ন্যায় যুদ্ধের মাধ্যমে। মার্কিন-ইসরায়েলকে বিরোধিতার নামে রাশিয়া/চীনা সাম্রাজ্যবাদীদের লেজুড়বৃত্তি করাও ভিন্ন শত্রুর ফাঁদে পা দেয়া। এটা শুধু সাম্রাজ্যবাদীদের বিশ্ব-যুদ্ধ প্রস্তুতির ষড়যন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। জনগণকে সকল সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দঁাড়াতে হবে।

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন থেকে মুক্তির উপায় ‘বিপ্লবী কর্মসূচি’

ইরানসহ বিশ্বের শোষিত জনগণের মুক্তির একমাত্র পথ হলো নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। লেনিন বলেছিলেন, “সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধে রূপান্তর করো।” অথার্ৎ, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের আদর্শের ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজেদের দেশের দালাল শাসক-শোষক শ্রেণি উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু করাই বিপ্লবী পথ। বিপ্লবী কর্মসুচি হিসেবে গণযুদ্ধই জনগণের একমাত্র মুক্তির পথ।

ইরানকে রক্ষায় কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ওপর ভরসা না করে জনগণের নিজ শক্তিতে ‘গণযুদ্ধের’ বিপ্লবী পথ গ্রহণ করতে হবে। লেনিনের ভাষায়, “সাম্রাজ্যবাদ হলো সর্বহারার বিশ্ব বিপ্লবের ঊষালগ্ন”। ইরানের এই রক্তপাত সেই বৈপ্লবিক পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু একে সঠিক রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের ও বিপ্লবের কাজে লাগাতে হবে।

ইরানে আমেরিকার বর্বর আগ্রাসন : সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব-পরিকল্পনা ও সর্বহারা শ্রেণির কর্তব্য

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি’২৬ ভোরে ইরানের আকাশ কেঁপে ওঠে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার আঞ্চলিক পোষা কুকুর ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ইসরায়েলের বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায়। এই পৈশাচিক আগ্রাসনের প্রথম কয়েক দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩,৫০০-এর বেশি মানুষ। তেহরান, ইসফাহান ও শিরাজসহ বিভিন্ন শহরে মার্কিন ইসরায়েলি হামলার আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বেসামরিক বসতি, কলকারখানা আর হাসপাতাল। শীর্ষ নেতা আলী খামেনিসহ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের হত্যাকাণ্ড তথাকথিত আন্তর্জাতিক আইনকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আজ সাধারণ সংকটের এক চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই মরণ সংকট কাটিয়ে ওঠার শেষ চেষ্টা হিসেবেই তারা দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

কেন এই আক্রমণ

এই আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বা ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের পথে প্রধান বাধা ইরানকে চূর্ণ করা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাৎসি সুলভ প্রেসিডেন্সি এখন আর কোনো রাখঢাক না রেখে মাফিয়া কায়দায় সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের বিশাল তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার লুণ্ঠন করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের তেল বাণিজ্যের ২০% পরিচালিত হয়। মার্কিন দস্যূরা চায় এই পথ কবজা করে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন-রাশিয়া অক্ষের অর্থনৈতিক ঘাড় মটকে দিতে। এ জন্য তারা এই হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের রেজিম পরিবর্তন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সিরিয়ায় শাসক বদল এবং গাজায় ইসরায়েলের বর্বর গণহত্যা চালিয়ে তারা সে পথ পরিষ্কার করেছে। এখন ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো এই অঞ্চলে চীন-রাশিয়া ব্লকের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। ইরানের সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তাদের বাজারের নিয়ন্ত্রণ আর নতুন বণ্টনের লড়াইয়ে মেতেছে।

সাম্রাজ্যবাদের সংকট

পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা আজ এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত। মুনাফার পাহাড় গড়তে গিয়ে তারা বিশ্বজুড়ে দারিদ্র আর পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে এনেছে। তথাকথিত ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো উন্নতি আনেনি, বরং আর্থিক পুঁজির শোষণের হাতিয়ার আরো শক্তিশালী হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ যখন সাধারণ সংকটে পড়ে, তখন প্রধান সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো কাঁচামাল এবং বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বিশ্বকে নতুন করে ভাগ-বাটোয়ারার লক্ষ্যে লড়াই শুরু করে। ল্যাটিন আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ থেকে শুরু করে ইরানে হামলা, সবই এক সুতোয় গাঁথা।  

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কিছু পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তা মার্কিন একগুঁয়েমি ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে আপাতত ভেস্তে গেছে। এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আবারও যুদ্ধের হুমকি দিয়ে ইরানকে কাবু করতে চাইছে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নৌ অবরোধ দিয়ে চাপ সৃষ্টিও করেছে। যদিও ট্রাম্প এখন চাইছে তাল গাছটা তার ইরান তা মেনে যুদ্ধ বন্ধ করুক। ইরানে বর্বর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে খোদ মার্কিন জনগণ ফুঁসে উঠেছেন। উপরন্তু চটজলদি জয় এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বড়ো ধরনের আার্থিক ঝঁুকিতে পড়ে মার্কিন শাসকশ্রেণির মধ্যে গুরুতর দ্বন্দ্ব বেধে উঠেছে।

উপরন্তু এ যুদ্ধে তারা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোকে তাদের পরিকল্পনায় একতাবদ্ধ করতে শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছে। ফলে মার্কিন-ট্রাম্প তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের সহযোগিতাও তেমন পাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালি আবার সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশকে নতুন আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশ এই অবদান রাখার বিষয়ে আলোচনা করলেও তারা জানিয়ে দিয়েছে কেবল যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পরই তারা এই প্রণালি উন্মুক্ত করতে সহায়তা করবে।

যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশসমূহ, ইউরোপীয় মিত্র এবং তৃতীয় বিশ্বের বহু দেশকে সংকটে ফেলেছে। তাই, তাদের দিক থেকে যুদ্ধ বন্ধের চাপ যুদ্ধরত দুই দেশ ও মার্কিন পালিত কুকুর ইসরায়েল এড়াতে পারছে না। ক্লান্ত দুই পক্ষ আপাতভাবে যুদ্ধ বিরতিতে গিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই নিজেদেরকে বিজয়ী দেখানোর জন্য এবং যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য বিবিধ শর্ত ও চাপ দিচ্ছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রশ্ন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন– অর্থাৎ উক্ত অঞ্চলে নিজ নিজ আধিপত্য ও প্রভাব যত বেশি সম্ভব জারি রাখতে। ইরানের পেছনে রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা এক্ষেত্রে তাকে শক্তি যোগাচ্ছে। এবং পুনরায় এটা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিশ্বের নব-ভাগবাটোয়ারা এবং সম্ভাব্য বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতিতে এ জাতীয় যুদ্ধ কতটা বেশি ভূমিকা রাখছে।

ধর্মবাদীদের চরিত্র এবং যুদ্ধে তাদের সমস্যা ইরানে এই আক্রমণ শুরু হওয়ার পর আমাদের দেশের কিছু ধর্মবাদী গোষ্ঠী একে ‘ইসলামের ওপর আঘাত’ বলে চিৎকার করছে। এরা মূলত চরম সুবিধাবাদী এবং ঐতিহাসিকভাবেই এরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল। এরা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে জনগণকে বিপ্লবী পথ থেকে দূরে রাখতে চায়। এই যুদ্ধকে তারা শিয়া-সুন্নি বা সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব হিসেবে হাজির করে সঙ্গোপনে জনগণের মধ্যে বিভাজনও তৈরি করছে। তারা সমগ্র সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার উন্মোচন কখনোই করে না। কেউ কেউ তাদের মার্কিনি দালালিকে আড়াল করার জন্য ধর্মীয় হুজুগ তোলে।

ইরানের বর্তমান ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট শাসকরা গত চার দশক ধরে সেদেশের শ্রমিক-নারী-ছাত্র-জনতা, প্রগতিশীলদের ওপর নির্মম দমন-নিপীড়ন চালিয়েছে। তা তাদেরকে জনগণের অনেকাংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই জনবিচ্ছিন্নতাই আজ সাম্রাজ্যবাদী দস্যূদের জন্য পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম দিনেই খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের হত্যাকাণ্ড ইরানের শাসকশ্রেণির মার্কিনপন্থি একটি অংশের বিশ্বাসঘাতকতার ফল। এভাবে ইরানের শাসকদের মধ্যে বিভাজন ও বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে, যা কিনা মার্কিনিরা চায়। কিন্তু পৃথিবীর জাতি-জনগণের এক নম্বর শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যখন ইরানে এক অন্যায় ও বর্বর আক্রমণ করেছে তখন সেটা বরং সেই ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট শাসকদের সুবিধা ডেকে এনেছে। তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে সাময়িকভাবে হলেও মার্কিন জুজুকে দেখিয়ে সেখানকার তরুণ-নারীসহ ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের বিক্ষোভ-বিদ্রোহকে সাময়িকভাবে হলেও চাপা দেয়া।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহ

কথিত ‘মুসলিম উম্মাহ’র ঐক্য আজ এক ধাপ্পাবাজি হিসেবে প্রমাণিত। ১৯৬৭ সালের পর থেকে আরব দেশগুলোর শাসকশ্রেণি মূলত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বেতনভুক্ত ভৃত্যে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরব, জর্ডান বা মিশরের দালাল শাসকরা হয় এই হত্যাকাণ্ডে মৌনতা পালন করছে, নয়তো পর্দার আড়াল থেকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মার্কিন-ইসরায়েলকে সাহায্য করছে।

আগামীর সংকটগুলো

এই যুদ্ধ কেবল ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব হবে দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বগ্রাসী। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ আজ লক্ষ লক্ষ শরণার্থী তৈরি করছে এবং দারিদ্র ও বেকারত্বকে ভয়াবহ পর্যায়ে ঠেলে দিচ্ছে। তেল ও জ্বালানি সংকট হওয়ার ফলে পরিবহণ খরচ, সারের দাম, সেচ ব্যবস্থা সবকিছই ব্যয়বহুল হয়ে যাবার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এসব বাড়তির দিকে। যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে কৃষির ওপর। দ্রব্যমূল্য বাড়ার পরিণামে জনদুর্ভোগ আরো বাড়াবে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়ছে, যা শিল্পকারখানার উৎপাদন কমিয়ে দেবে এবং শ্রমিক ছঁাটাই অনিবার্য করে তুলবে। এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলবে। মার্কিনিরা যদি স্থল-যুদ্ধ শুরু করে (যদিও তার সম্ভাবনা এখন কম) ইরান আগামীতে সিরিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের আবর্তে পড়তে পারে। আমাদের দেশে বিএনপি সরকার বা বুর্জোয়া বিরোধীরা এই যুদ্ধের দোহাই দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার মূল কারণ, সাম্রাজ্যবাদ-নির্ভর অর্থনীতি ও রাজনীতি, তাকে আড়াল করছে, করবে এবং জনগণের উপর শোষণ-নিপীড়ন আরও তীব্র করবে। সাম্রাজ্যবাদ-নির্ভর অর্থনীতির এই সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে, আরো তুলবে যা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সাম্রাজ্যবাদ বনাম ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ: জনগণ কোন দিকে যাবেন?

একদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী-ইসরায়েলি আগ্রাসন, অন্যদিকে ইরানের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ– জনগণ কোনদিকে যাবেন? এই দুটির কোনোটিই জনগণের মিত্র নয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ হলো বিশ্বের নিপীড়িত জাতি-জনগণের এক নম্বর শত্রু। অন্যদিকে, ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ হলো জনগণের অভ্যন্তরীণ হিংস্র শত্রু। তাই, সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ দুটোকেই বিরোধিতা করতে হবে।

কমরেড মাওয়ের শিক্ষা অনুযায়ী, জনগণকে অন্যায় যুদ্ধের বিরোধিতা করতে হবে ন্যায় যুদ্ধের মাধ্যমে। মার্কিন-ইসরায়েলকে বিরোধিতার নামে রাশিয়া/চীনা সাম্রাজ্যবাদীদের লেজুড়বৃত্তি করাও ভিন্ন শত্রুর ফাঁদে পা দেয়া। এটা শুধু সাম্রাজ্যবাদীদের বিশ্ব-যুদ্ধ প্রস্তুতির ষড়যন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। জনগণকে সকল সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দঁাড়াতে হবে।

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন থেকে মুক্তির উপায় ‘বিপ্লবী কর্মসূচি’

ইরানসহ বিশ্বের শোষিত জনগণের মুক্তির একমাত্র পথ হলো নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। লেনিন বলেছিলেন, “সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধে রূপান্তর করো।” অথার্ৎ, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের আদর্শের ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজেদের দেশের দালাল শাসক-শোষক শ্রেণি উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু করাই বিপ্লবী পথ। বিপ্লবী কর্মসুচি হিসেবে গণযুদ্ধই জনগণের একমাত্র মুক্তির পথ।

ইরানকে রক্ষায় কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ওপর ভরসা না করে জনগণের নিজ শক্তিতে ‘গণযুদ্ধের’ বিপ্লবী পথ গ্রহণ করতে হবে। লেনিনের ভাষায়, “সাম্রাজ্যবাদ হলো সর্বহারার বিশ্ব বিপ্লবের ঊষালগ্ন”। ইরানের এই রক্তপাত সেই বৈপ্লবিক পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু একে সঠিক রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের ও বিপ্লবের কাজে লাগাতে হবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র